|
|
|
জেলা পর্যায়ে সুপ্র'র উদ্যোগে এমডিজি সেমিনার
এমডিজি'র অগ্রগতি মূল্যায়ন ও পর্যালোচনা: আত্মতৃপ্তির অবকাশ কোথায়?
গত ১০ জুলাই
থেকে ১২ আগষ্ট দেশের ৪০ জেলায় সুপ্র'র অনুষ্ঠিত হলো ''এমডিজি'র অগ্রগতি মূল্যায়ন
ও পর্যালোচনা: আত্মতৃপ্তির অবকাশ কোথায়?'' শীর্ষক সেমিনার৷ সারাদেশে এমডিজি
ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে জেলা পর্যায়ে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়৷ সারা বিশ্বের
দরিদ্র মানুষের সাথে একাত্ম হয়ে বাংলাদেশের মানুষ আরও একবার মেপে দেখল এমডিজির
আলোকে তাদের জীবন-জীবিকার উন্নয়ন, রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা এবং ধনীদেশগুলোর সহায়তা৷
এর আগে গত ৭ জুলাই ২০০৭ সারা পৃথিবীতে জাতিসংঘভূক্ত দেশগুলোতে অনুষ্ঠিত হল
মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল বা এমডিজি অর্জনের মধ্যবর্তী পর্যালোচনা ৷
জাতিসংঘভূক্ত ১৮৯টি দেশ এমডিজি'র ৮টি ল্যের আলোকে তাদের অর্জনগুলো মূল্যায়ন করলো৷
বাংলাদেশে সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান (সুপ্র) তাদের দৃষ্টিতে এমডিজিকে মুল্যায়ন
ও পর্যালোচনা করেছে৷ এবং এমডিজির পর্যালোচনা নিয়ে গত ৬ জুলাই ২০০৭ সংবাদ
সম্মেলনের মাধ্যমে ৪৬ জেলায় মাসব্যাপী প্রচারাভিযানের সূচনা করেছিল এবং ১২ আগস্ট
পর্যন্ত এই জেলাগুলোতে পর্যায়ক্রমিকভাবে শেষ হয়েছে এই ক্যাম্পেইন৷ সুপ্র
সচিবালয়ের কর্মীরা এখন জেলা পর্যায় থেকে প্রাপ্ত সুপারিশগুলো নিয়ে কাজ করছেন৷ এই
সুপারিশগুলো গত ৬ আগস্ট সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত প্রবন্ধের সাথে সমন্বয় করে
আগামী সেপ্টেম্বরের ১ম সপ্তাহে জাতীয়ভাবে সেমিনারের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হবে৷
সারাদেশে বন্যার কারণে কয়েকটি জেলা যেমন, জামালপুর, গাইবান্ধা ও সিরাজগঞ্জ জেলায়
এমডিজি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়নি৷ আরও ২/১টি জেলায় বিভিন্ন সীমাবন্ধতার কারণে
সেমিনার অনুষ্ঠান করা যায়নি৷ তবে বাকি জেলাগুলোতে সুষ্টূভাবে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত
হয়েছে যা সারাদেশে জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমের মাধ্যমে দেশবাসীর দৃষ্টিতে এসেছে৷
জেলা পর্যায়ে বাজেট, পিআরএসপি ও এমডিজি নিয়ে আলোচনা সুপ্র প্রথম শুধু করেছে৷
সূচনালগ্ন অর্থাত্ ২০০২ সাল থেকে সুপ্র এই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক
ইmy¨গুলোকে
তৃণমানুষের কাছাকাছি নিয়ে গেছে৷ বিষয়টি সহজে বোধগম্য করে তোলার জন্য সহজ ভাষায় বই
পোস্টার লিফলেট প্রকাশ করেছে৷ সুপ্র চায়, এ বিষয়গুলো শধু ঢাকা কেন্দ্রিক না থেকে
জেলা পর্যায়েও বিশ্লেষণধর্মী একটি সিভিল সোসাইটি তৈরি হোক৷ মতামত গড়ে উঠুক৷
বরাবরের মতো এবারেও সুপ্র এমডিজি'র অগ্রগতি মূল্যায়ন ও পর্যালোচনা করে ২টি
বিশ্লেষণধর্মী পোষ্টার প্রকাশ করেছে৷ পোষ্টার দু'টিতে এমডিজির
j¶¨
, বাংলাদেশের
টার্গেট, ২০০৭ এ আমরা কোথায় আছি, কোথায় থাকতে হতো সেগুলো তথ্য উপাত্ত দিয়ে তুলে
ধরা হয়েছে৷ পাশাপাশি ২০১৫ সালের মধ্যে এমডিজি অর্জনের জন্য কিছু সুপারিশও তুলে
ধরা হয়েছে৷ এছাড়া এমডিজি'র ৮
jবi
ওপর ৮টি
গবেষণা পত্র প্রকাশ করেছে৷
জেলা
পর্যায়ে এমডিজি অর্জনের জন্য গণমানুষের অভিমত
এমডিজি অর্জনের জন্য দেশীয় কৌশল নির্ধারণ করতে
হবে৷ বিশ্বব্যাংক আইএমএফের পরামর্শে বাণিজ্য উদারীকরণ ও দেশীয় শিল্প বন্ধ করে
এমডিজি অর্জন করা যাবে না৷
আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা
বিশেষ করে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের পরামর্শে বাণিজ্য উদারীকরণ এবং দেশীয় পাটশিল্প
বন্ধ করে দিয়ে মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল বা এমডিজি অর্জন করা যাবে না৷ এদেরই
প্রেসক্রিপশনে বিজিএমসির আওতাধীন পাটকলগুলোকে লোকসানের অজুহাতে সরকার একে একে
বন্ধ করে দিচ্ছে৷ এমনকি বাংলাদেশের সোনালীআঁশ পাটকে পুরোপুরি গুটিয়ে ফেলার
বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় আছে বলে পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে৷ অথচ ১৯৮১-৮২ সালে
বিশ্বব্যাংকের পরামর্শেই রাষ্ট্রায়ত্ব ৬৯টি পাটকলের ৩১টিকে ব্যক্তি মালিকানায়
ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল৷ তখন বলা হয়েছিল এর ফলে উত্পাদন বাড়বে, কর্মসংস্থান বাড়বে৷
তাদের পরামর্শেই ২০০২ সালে পাটশিল্পকে
evPvu‡bvi
জন্য বন্ধ করা হয়েছিল পৃথিবীর
সর্ববৃহত্পাটকল আদমজী পাটকল৷ আজ একই অজুহাতে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে একের পর এক
পাটকল৷ পাশাপাশি বাণিজ্য উদারীকরণের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সাথে বাড়ছে
দেশীয় বাজারে দ্রব্যমূল্য ৷ সে হারে বাড়েনি মানুষের কর্মসংস্থান ও ক্রয়মতা৷ এই
অবস্থায় বাংলাদেশের জন্য এমডিজি অর্জন করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়বে৷ 'সুশাসনের জন্য
প্রচারাভিযান' গত ১০ জুলাই-১০ আগস্ট ২০০৭ জেলা পর্যায়ে আয়োজিত 'এমডিজি অগ্রগতি
মূল্যায়ন ও
chv©‡jvPbv
আত্মতৃপ্তির অবকাশ কোথায়" শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এ
অভিমত ব্যক্ত করেন৷
সারা দেশব্যাপী এমডিজি ক্যাম্পেইনের অংশ হিসাবে হিসেবে জেলা পর্যায়ে আয়োজিত এ
সেমিনারে বেশিরভাগ জেলায় প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকেছেন জেলা
প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা৷ এই নিউজ লেটারের মাধ্যমে আমরা তাদের কাছে
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি৷ তারা সেমিনারে উপস্থিতি আমাদের আয়োজনকে সমৃদ্ধ করেছে৷
পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক আইনজীবি, রাজনীতিবিদ ও এনজিও প্রতিনিধি
শিক, ছাত্র প্রত্যেকটি দল আমাদের সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন৷
সেমিনারে
এমডিজি ৮টি ল্যের ওপরে ৮টি গবেষণা পত্র এবং এমডিজির বর্তমান অবস্থা, চ্যালেঞ্জ ও
সুপারিশ নিয়ে ২টি পোস্টার উপস্থাপন করা হয়৷ প্রবন্ধগুলোতে বলা হয়, এমডিজি অর্জনে
বাংলাদেশের উলেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও বেশকিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে৷ যেমন,
wk¶v ,
স্বাস্থ্য ও জেন্ডার সমতা অর্জনে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকলেও দারিদ্র্য
দূরীকরণ, শিশু
g„Zz¨nªvm , এইআইভি/এইডস প্রতিরোধ ও স্থায়ীত্বশীল পরিবেশ
নিশ্চিতকরণের
†¶‡G
এখনও
ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে৷ কারণ বাংলাদেশের অপরদিকে বাংলাদেশের
উন্নয়ন বাজেটের ৪৮% বিদেশী সাহায্যনির্ভর৷ বাজেটের ২০% খরচ হয় ঋণের সুদ বাবদ৷ যা
বছরে ৭১৫ মিলিয়ন ডলারের মতো, এই টাকা বর্তমানে আমাদের বার্ষিক স্বাস্থ্য বাজেটের
চেয়ে বেশি৷
প্রবন্ধগুলোতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ মাথাপিছু দেনার পরিমান ১৫১ ডলার অর্থাত্
টাকায় ১০৪৭৫ টাকা৷ প্রতিটি শিশু জন্মগ্রহণ করছে এই পরিমান দেনা মাথায় নিয়ে৷ এই
অবস্থায় যদি বাংলাদেশের মতো দরিদ্র দেশগুলোর বৈদেশিক দেনাকে বাতিল করে যদি
এমডিজি'র সাথে যুক্ত করা না হয়, তাহলে এই দেশগুলো নতুনভাবে আরও গভীর দেনায় নিপতিত
হবে৷ সংবাদ সম্মেলনে তারা এমডিজি অর্জনের জন্য দরিদ্র দেশগুলোর দেনা বাতিলের দাবি
জানান৷
ক্যাম্পেইন সম্পর্কে আরও জানতে
www.supro.org
দেখুন৷
|
|