সংখ্যা : ১ম  ২য়  ৩য় 4_© 5g 7g

 

 

 

 

 

 

সুপª'র এমডিজি ক্যম্পেইন

বৈদেশিক দেনা বাতিল ও শর্তবিহীন সাহায্য না পেলে বাংলাদেশের
এমডিজি অর্জন কঠিন হবে৷

 



গত ৭ জুলাই ২০০৭ সারা পৃথিবীতে জাতিসংঘভূক্ত দেশগুলোতে অনুষ্ঠিত হল মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল বা এমডিজি অর্জনের মধ্যবর্তী পর্যালোচনা ৷ জাতিসংঘভূক্ত ১৮৯টি দেশ এমডিজি'র ৮টি j¶¨ আলোকে তাদের অর্জনগুলো মূল্যায়ন করলো বাংলাদেশে সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান (সুপ্র) তাদের দৃষ্টিতে এমডিজিকে মুল্যায়ন ও পর্যালোচনা করেছে৷ এবং এমডিজির পর্যালোচনা নিয়ে গত ৬ জুলাই ২০০৭ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মাসব্যাপী প্রচারাভিযানের সূচনা করেছে৷ আগামী ১৫-৩১ জুলাই ২০০৭ সুপ্র'র ৪৬ জেলায় এমডিজি নিয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত৷ জেলা পর্যায়ের সেমিনারে সুপ্র'র তৃণমূলের নেতৃবৃন্দ ৮টি ল্যে বাংলাদেশের অর্জন কতটুকু হয়েছে তা মূল্যায়ন ও পর্যালোচনা করবেন৷ জেলা পর্যায়ের সেমিনার শেষে আগামী ১১ আগস্ট ২০০৭ জাতীয় র্পযায়ে সেমিনারের মাধ্যমে বাংলাদেশের এমডিজি অর্জন, সীমাবন্ধতা, সীমাবদ্ধকা কাটিয়ে ওঠার উপায়সমূহ চিহ্নিত করে গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ ও নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে তুলে ধরা হবে৷

সুপ্র'র এ আয়োজনের উদ্দেশ্য হচ্ছে, বাংলাদেশর
্রেw¶‡Z এমডিজি ল¶¨মাত্রা অনুযায়ী বর্তমান অগ্রগতি/অর্জন পরিমাপ করা; এমডিজি অর্জনের ‡¶‡ত্র সরকারের ভূমিকা পর্যালোচনা করা; এমডিজি অর্জনের ‡¶‡ত্র সম্ভ্যাব্য বাধাসমূহ সনাক্ত করা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্য j¶¨
অর্জনের উদ্দেশ্যে অফাড়পধপু করা , এবং স্থানীয় পর্যায়েবিভিন্ন স্টেকহোল্ডাদের মবিলাইজ করা যাতে এমডিজি বিষয়ে সচেতনতা এবং দাবীর বিষয়টি জোরদার করা৷

সুপ্র এ প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবে এমডিজি'র ৮টি ল্যের অগ্রগতি নিয়ে গবেষণামূলক ২টি পোস্টার প্রকাশ করেছে৷ পোস্টার দুটিতে দেখানো হয়েছে ২০০৭-এ বাংলাদেশে এমডিজির অর্জনে কোথায় আছে? কোথায় থাকতে হতো? এবং ২০১৫ সালের মধ্যে এমডিজি অর্জনের জন্য সহায়ক কতগুলো সুপারিশ এখানে তুলে ধরা হয়েছে৷ এছাড়া এমডিজি'র ৮ ল্যের ওপর ৮টি গবেষণা পত্র প্রকাশ করেছে৷
 

এমডিজি অর্জনে সুপ্র'র উপলব্ধি হচ্ছে, বাংলাদেশে এমডিজি অর্জনের জন্য বাংলাদেশের বৈদেশিক দেনা বাতিল করতে হবে৷ না হলে বাংলাদেশ এমডিজি অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে৷ কারণ বাংলাদেশকে প্রতিবছর ৭১৫ মিলিয়ন ডলার দেনা পরিশোধে ব্যয় করতে হয় (জুবিলি নেদারল্যান্ড ও সুপ্র ২০০৭) যা আমাদের স্বাস্থ্যখাতের বার্ষিক ব্যয় বরাদ্দের চেয়ে বেশি৷ সুপ্র ও জুবিলি নেদারল্যান্ডের এক গবেষণায় দেখানো হয়েছে যে, বাংলাদেশ তার ঋণের বিপরীতে ১.০০ ডলারের জন্য ১.৫০ ডলার ব্যয় করে থাকে ৷ সুপ্র মনে করে, দেনা পরিশোধ করার জন্য জন্য ১ ডলার ব্যয় করার অর্থ হল, এমডিজি অর্জনের ‡¶ত্র ১ ডলার তি৷

 

 


GgwWwR wb‡q mycÖ Av‡qvwRZ msev` m‡¤§j‡bi e³v‡`i `vwe

দরিদ্র দেশগুলোর এমডিজি অর্জনের জন্য দাতা দেশগুলোকে তাদের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে হবে৷ দরিদ্র দেশগুলোর দেনা বাতিল করতে হবে৷


২০১৫ সালের মধ্যে দরিদ্র দেশগুলোকে মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল (এমডিজি) অর্জন করতে হলে দাতা দেশগুলোকে তাদের প্রতিশ্রুতি পালন করতে হবে৷ এমডিজি অর্জনের জন্য দাতা দেশগুলোর তাদের জাতীয় আয়ের ০.৭% দেয়ার কথা wছল৷ কিন্তু তারা দিচ্ছে মাত্র ০.৩৩%৷ বিশ্বে ২০০৫ এ বৈদেশিক সাহায্য রেকর্ড পরিমান বেড়েছিল যা প্রায় ১০৬.৮ বিলিয়ন ডলারের মতো৷ কিন্তু এরপরেও এই সাহায্য উন্নত দেশগুলোর জাতীয় আয়ের ০.৩% এর ওপরে যায়w ৷ বাংলাদেশের ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য থেকে জানা যায়, দেশে বৈদেশিক সাহায্যের পরিমান দিন দিন কমছে৷ ১৯৯৯ সালে এটা ছিল ১১৭৯ মিলিয়ন ডলার যা ২০০৬ এ এসে দাড়িয়েছে ৭৫২.৩৬ মিলিযন ডলারে৷ অর্থাত্‍ সাহায্য কমার হার প্রায় ৩৭%৷ এই অবস্থায় বাংলাদেশের মতো দরিদ্র দেশগুলোতে এমডিজি'র ৮টি j¶¨ অর্জন করা কঠিন হবে৷ সুপ্র দাবি করে যে, এমডিজি অর্জনের জন্য প্রতিবছর ৭.৫ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক সাহায্য পাওয়া উচিত যা বর্তমানে পাওয়া ১.৪ বিলিয়ন এর চাইতে ৪ গুণ বেশি৷ ইউএন সমপ্রতি এমডিজি নিয়ে একটি রিপোর্টে প্রকাশ করেছে ২০০৬ এ এই সাহায্য আরও কমে গেছে৷ গত ৬ জুলাই ২০০৭ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান (সুপ্র) আয়োজিত Óএমডিজি অগ্রগতি মূল্যায়ন ও পযলোচনা: আত্মতৃপ্তির অবকাশ কোথায়" শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এ কথা বলেন৷

সুপ্র
চেয়ারম্যান y আউয়াল সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুপ্র'র নীতি গবেষণা বিভাগের সমন্বয়কারী সৈয়দ আমিনুল হক৷ মূল আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সুপ্র সচিব রেজাউল করিম চৌধুরী৷ সংবাদে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন কোস্ট ট্রাস্টের সহকারী পরিচালক আমিনুর রসুল বাবুল ও সুপ্র ঢাকা জেলার সম্পাদক শাহদাত ইসলাম মিন্টু৷ স্বাগত বক্তব্য রাখেন সুপ্র'র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার রায়৷

সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধে বলা হয়, এমডিজি অর্জনে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও বেশকিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে৷ যেমন, শি¶v, স্বাস্থ্য ও জেন্ডার সমতা অর্জনে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকলেও দারিদ্র দূরীকরণ, শিশু মৃতy¨হ্রাস, এইআইভি/এইডস প্রতিরোধ ও স্থায়ীত্বশীল পরিবেশ নিশ্চিতকরণের ¶‡ত্র এখনও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে৷ কারণ বাংলাদেশের ৪০.৯% মানুষ এখনও দিনে ১ ডলারের কম আয় করে৷ চরম দারিদ্র্য দশায় রয়েছে ৩৬% মানুষ যা ১৯৯০-৯৫ সালে ছিল ২৮% এবং এই হার দিন দিন বাড়ছে৷ অপরদিকে বাংলাদেশের উন্নয়ন বাজেটের ৪৮% বিদেশী সাহায্যনির্ভর৷ বাজেটের ২০% খরচ হয় ঋণের সুদ বাবদ৷ যা বছরে ৭১৫ মিলিয়ন ডলারের মতো, এই টাকা বর্তমানে আমাদের বার্ষিক স্বাস্থ্য বাজেটের চেয়ে বেশি৷

প্রবন্ধে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ মাথাপিছু দেনার পরিমান ১৫১ ডলার অর্থাত্‍ টাকায় ১০৪৭৫ টাকা৷ প্রতিটি শিশু জন্মগ্রহণ করছে এই পরিমান দেনা মাথায় নিয়ে৷ এই অবস্থায় যদি বাংলাদেশের মতো দরিদ্র দেশগুলোর বৈদেশিক দেনাকে বাতিল করে যদি এমডিজি'র সাথে যুক্ত করা না হয়, তাহলে এই দেশগুলো নতুনভাবে আরও গভীর দেনায় নিপতিত হবে৷ সংবাদ সম্মেলনে তারা এমডিজি অর্জনের জন্য দরিদ্র দেশগুলোর দেনা বাতিলের দাবি জানান৷

সংবাদ সম্মেলনে এমডিজি ৮টি ল্যের ওপরে ৮টি গবেষণা পত্র এবং এমডিজির বর্তমান অবস্থা, চ্যালেঞ্জ ও সুপারিশ নিয়ে ২টি পোষ্টার উপস্থাপন করা হয়৷ সম্মেলনে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ সাংবদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন৷

ক্যাম্পেইন সম্পর্কে আরও জানতে
www.supro.org
 দেখুন৷


 

© 2007 SUPRO, Bangladesh

 [ send your comments ] [ subscribe ] [ unsubscribe ] [ Send this page to a friend ]

eNewsletter by http://www.supro.org