|
চতুদর্শ সার্ক সম্মেলন |
|||
|
শান্তি ও সমৃদ্ধি অর্জনে আরো সংহতি আরো ঐক্য
দক্ষিন এশিয়ার শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য
আরো সংহতি আরো ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে শেষ হল চতুর্দশ সার্ক শীর্ষ সম্মেলন৷ আট
দিল্লী সম্মেলন থেকে সার্কভুক্ত দেশগুলো কী পেল?
সার্ক সম্মেলনে ভারতের একক ২টি
ঘোষণাকে যুগান্তকারী হিসেবে দেখতে হবে, (১) ভারত সার্কের অনুন্নত দেশ
(বাংলাদেশ, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভুটান) সমূহের উত্পাদিত পণ্যকে এ বছরের শেষ দিক
থেকে বিনা শুল্ক ও বিনা অশুল্ক বাধায় প্রবেশের অধিকার দিয়েছে, (২) ভারত সার্কের
অন্যান্য দেশসমূহের ছাত্র, সাংবাদিক, রোগী তথা অন্যান্য পেশাজীবীদের ভিসা
প্রদানের নিয়ম সহজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে৷ বড় ও শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে
প্রতিবেশী ছোট রাষ্ট্রগুলোর আস্থা অর্জনের জন্য ভারতের এ ধরণের একক ঘোষণার
প্রয়োজন ছিল ৷
এর বাইরে ১৪তম শীর্ষ সম্মেলনের ২৯ দফা ঘোষণার মধ্যে উল্লেখযোগ্য যে দফাগুলো
আমাদের প্রত্যাশাকে বাড়িযে দিয়েছে, তা হচ্ছে : (৫) প্রতিটি দেশে উন্নয়ন কাজের
মডেল হিসেবে একটি করে সার্ক গ্রাম স্থাপন করা, (৬) সার্ক সোশ্যাল চার্টার
বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় সমন্বয় কমিটি করা, যেখানে সুশীল সমাজের ভূমিকাকে
স্বীকার করা হয়েছে, (৭) প্রতিটি জাতীয় দারিদ্র্য দূরীকরণ কর্মসূচিতে
MDG
(Millennium Development Goal)
কে সামনে রেখে
SDG (Saarc
Development Goal)
কে অন্তর্ভক্ত করে
ল্যক্ষ নির্ধারণে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে৷ উত্পাদনশীল
কর্মসংস্থান ও সম্পদে দরিদ্রদের অভিগম্যতাকে গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে৷ (৮)
বহুমাত্রিক পরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য ২০০৭ এর মধ্যে ভারতে মন্ত্রী
পর্যায়ের বৈঠক বসবে
৷ (৯) সার্ক ডেভলপমেন্ট ফান্ডে
(SDF)
এখন থেকে সার্কভুক্ত দেশ ছাড়াও এর বাইরে থেকে তহবিল নেয়া যাবে৷ সম্মেলনের প্রথম
দিকে ভারত বাইরে থেকে তহবিল নেবার বিরোধী ছিল৷ অতি দ্রুত এই তহবিল থেকে প্রকল্প
শুরুর জন্য তাগিদ দেয়া হয়েছে৷ (১০) এনার্জি বিষয়ে প্রথম সার্ক মন্ত্রী পর্যায়ের
বৈঠকের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের তাগিদ দেয়া হয়েছে৷ (১১ ও ১২) ঘোষণায় সার্ক
অঞ্চলের পরিবেশ রার জন্য কর্ম পরিকল্পনা বাস্তবায়নের তাগাদা দেয়া হয়েছে৷ ২০০৭
কে দক্ষিনি এশিয়ার 'সবুজায়ন' বছর হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে৷ এ অঞ্চলের জলবায়ু
পরিবর্তনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে এবং এক্ষেত্রে সমন্বিত কর্ম পরিকল্পনা নেয়ার
জন্য তারা একটি বিশেষজ্ঞ টিম গঠনে সম্মত হয়েছেন৷ (১৩) সার্ক দেশসমূহ মধ্যেকার
টেলিফোন ব্যবস্থার
ক্ষেত্রে বিভিন্ন শুল্ক, দাম, হার, ক্রয় ইত্যাদির
যৌক্তিকীকরণের কথা স্বীকার করেছেন ৷ ( ১৪) সাফটার
ক্ষেত্রে তারা সেবা সেক্টরে এবং
বিনিয়োগে উত্সাহীকরণ ও সুরায় দ্রুত চুক্তির তাগাদা দিয়েছেন৷ (১৫) কাস্টম
প্রথা, ফাইটো সেনিটারি মানদণ্ডগুলোর দ্রুত ও একই ধরণের মান নির্ধারণের তাগাদা
দিয়েছে৷ (১৭) দক্ষিনি এশিয়া অর্থনৈতিক ইউনিয়ন ও দক্ষিনি এশিয়া কাস্টম ইউনিয়ন
গঠনের একটি রোডম্যাপ তৈরির তাগাদা দিয়েছেন৷ (১৮) সার্ক অঞ্চলের জনগণের ভেতরে
আরো বেশি আদান-প্রদানের জন্য বার্ষিক সার্ক উত্সবকে প্রতিষ্ঠানীকরণের ওপর
গুরুত্ব দিয়েছেন৷ নেতৃবৃন্দ সার্ক অঞ্চলের নাগরিকদের এ অঞ্চলের পুরার্কীতি
সমূহে স্ব-স্ব দেশের নাগরিকদের সমপরিমান ফি নির্ধারণে সম্মত হয়েছেন৷ তারা
বাংলাদেশের প্রস্তাবিত প্রথম
SAARC Youth
Camp প্রস্তাবনাকে স্বাগত
জানিয়েছেন৷ (২৫) তারা শ্রীলঙ্কার প্রস্তাবিত আইন বিশেষজ্ঞদের সম্মেলনকে স্বাগত
জানিয়েছেন যেখানে ভারতের খসড়াকৃত
SAARC
Convention on Mutual Asssitance in Criminal Matters
আলোচনা হবে ৷ এটা অনুষ্ঠিত হবে
অক্টোবর ২০০৭ এ ভারতে সার্কের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীদের দ্বিতীয় বৈঠকের পূর্বে৷
(২৭) তারা বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার দোহা রাউন্ড আলোচনায় সার্কের সকল বাণিজ্য
মন্ত্রীদের তাদের অবস্থান সমন্বিত করার আহ্বান জানিয়েছেন, যেখানে একটি
বহুজাতিকভিত্তিক, আইনভিত্তিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় গুরুত্ব দেয়া হয়েছে, এবং
উন্নয়নকে কেন্দ্রবিন্দুতে নেয়া হয়েছে ৷ বাংলাদেশ কী পেল?
১৪তম সার্ক সম্মেলনে বাংলাদেশের ইমেজ
বৃদ্ধি পেয়েছে ৷ এটা হয়েছে মূলত দুটো কারণে প্রথমত: সার্ক সম্মেলনের আগে
জঙ্গীদের ফাঁসি এবং বর্তমান সরকারের দুনীর্তি দমন বিষয়ক কর্মকান্ডের কারণে,
দ্বিতীয়ত: প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দিন সাহেবের সুলিখিত বক্তব্যের কারণে,
যেখানে সার্ক অঞ্চলের নাগরিক সমাজের বিভিন্ন দাবি এবং সুদুরপ্রসারী বিষয়সমূহ
প্রধান্য পেয়েছে ৷ এর পাশাপাশি অন্য রাষ্ট্র নায়কদের বক্তৃতায় সার্ক অঞ্চলের
নাগরিক সমাজের বিষয়গুলো তেমন একটা আসেনি ৷ এবং এটা উল্লেখ করা প্রয়োজন যে মূলত
ড. ফকরুদ্দিনের উল্লেখিত বিষয়গুলোর প্রায় প্রতিটি বিষয়ই সম্মেলনের সমাপনী
ঘোষণায় ২৯টি পয়েন্টে জায়গা পেয়েছে ৷ |
|||
|
© 2007 SUPRO, Bangladesh [ send your comments ] [ subscribe ] [ unsubscribe ] [ Send this page to a friend ] eNewsletter by http://www.supro.org | |||